Requirements not met
Your browser does not meet the minimum requirements of this website. Though you can continue browsing, some features may not be available to you.
Browser unsupported
Please note that our site has been optimized for a modern browser environment. You are using »an unsupported or outdated software«. We recommend that you perform a free upgrade to any of the following alternatives:
Using a browser that does not meet the minimum requirements for this site will likely cause portions of the site not to function properly.
Your browser either has JavaScript turned off or does not support JavaScript.
If you are unsure how to enable JavaScript in your browser, please visit wikiHow's »How to Turn on Javascript in Internet Browsers«.
Language / ভাষা:
আন্তর্জাতিক
কন্যার সাফল্য ও একজন পিতার আত্মদর্শন
- Details
//দেলোয়ার জাহিদ//
জীবনের দীর্ঘ পথচলায় মানুষ অনেক পরিচয়ে পরিচিত হয়—শিক্ষক, লেখক, সংগঠক, সম্পাদক, সমাজকর্মী কিংবা কর্মজীবনের যোদ্ধা হিসেবে। কিন্তু সময়ের শেষ প্রান্তে এসে উপলব্ধি করি, এই সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যে পরিচয়টি সবচেয়ে গভীর, সবচেয়ে নীরব অথচ সবচেয়ে অর্থবহ, তা হলো—একজন পিতা হওয়া।
আশির দশক থেকে আমার জীবন নানা অভিজ্ঞতার বুননে গড়ে উঠেছে। বেসরকারি কলেজের শিক্ষকতা, সংবাদপত্র সম্পাদনা, সামাজিক সংগঠন পরিচালনা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে মানুষের জন্য কিছু করার এক নিরন্তর প্রয়াস ছিল আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। কৈশোর ও যৌবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেটেছে কুমিল্লার একটি নিবন্ধিত সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। শতাধিক শিশু, কিশোর ও যুবককে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে আমরা বহু সফল প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। তারও আগে, স্বাধীনতার মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিক্ষেত্র পেরিয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ করি। সেই জীবন আমাকে শিখিয়েছে সংগ্রাম, দায়িত্ব ও মানুষের প্রতি অঙ্গীকারের মূল্য।
কিন্তু আজ ফিরে তাকিয়ে দেখি, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আমি পেয়েছি আমার সন্তানদের বড় হতে দেখার মধ্য দিয়ে।
এক সময় ছিল যখন আমি আমার কন্যা ইশরাত জাহান মৌমিকে বিভিন্ন সম্মেলন, সামাজিক অনুষ্ঠান, কর্মশালা কিংবা শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করতাম। কিন্তু সে ছিল নিজের জগতে নিবিষ্ট, নিজের স্বপ্ন ও ভাবনার পথে চলতে আগ্রহী। অনেক সময় মনে হতো, আমি যে মূল্যবোধ, যে অভিজ্ঞতা কিংবা যে শিক্ষা তাকে দিতে চাই, সেগুলো আদৌ তার ভেতরে কোনো বীজ রোপণ করতে পারছে কি না।
আজ বুঝি, সন্তানকে শেখানো মানে তাকে নিজের প্রতিচ্ছবি বানানো নয়; বরং তাকে তার নিজস্ব সত্তাকে আবিষ্কারের সুযোগ করে দেওয়া। প্রকৃত শিক্ষা কখনো চাপিয়ে দেওয়া যায় না—তা সময়ের গভীরে নীরবে অঙ্কুরিত হয়।
২০২৬ সালের ৫ জুন, অটোয়ায় অনুষ্ঠিত CASWE-ACFTS জাতীয় সম্মেলনে যখন আমার কন্যা ইশরাত কানাডার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের সামনে তার গবেষণাপত্র উপস্থাপন করছিল, তখন আমি একজন দর্শক ছিলাম না; আমি যেন সময়ের এক দীর্ঘ যাত্রাপথের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার অপেক্ষায় ছিলাম ।
তার গবেষণার বিষয় ছিল—‘কোভিড-১৯ চলাকালীন অন্তরঙ্গ সঙ্গীর সহিংসতার শিকারদের সহায়তা: সমাজকর্মে আন্তঃসংযুক্ত ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা’। বিষয়টির গভীরতা আমাকে মুগ্ধ করেছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আমাকে স্পর্শ করেছে মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা, সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি তার অঙ্গীকার এবং মানবিক মর্যাদার পক্ষে তার অবস্থান।
সেই মুহূর্তে আমার মনে হলো, জীবনের প্রকৃত সার্থকতা ব্যক্তিগত অর্জনে নয়; বরং পরবর্তী প্রজন্মের হাতে মানবতার মশালটি তুলে দিতে পারার মধ্যে নিহিত।
আমরা পিতামাতারা প্রায়ই ভাবি, আমাদের সন্তানদের আমরা গড়ে তুলি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে উপলব্ধি করি, আমরা কেবল মাটিকে প্রস্তুত করি; বীজের ভেতরে যে সম্ভাবনা নিহিত থাকে, তার বিকাশের নিজস্ব নিয়ম আছে। একটি বৃক্ষ যেমন নিজের সময়ে ফুল ফোটায়, তেমনি একটি সন্তানও নিজের সময়ে তার অন্তর্নিহিত শক্তির প্রকাশ ঘটায়।
একজন পিতা হিসেবে আমি কৃতজ্ঞ—মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে, যিনি তাকে পথ দেখিয়েছেন; সেই সমাজের কাছে, যা তাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে; এবং সেই সব মানুষদের কাছে, যারা তার জীবনের যাত্রায় সঙ্গী ও সহায়ক হয়েছেন। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ তার জীবনসঙ্গীর প্রতি, যার নীরব সমর্থন, ধৈর্য ও উৎসাহ তার অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করেছে।
আমার কাছে এই সাফল্য কেবল একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপনার ঘটনা নয়। এটি সময়, শিক্ষা, মূল্যবোধ, অধ্যবসায় এবং মানবিক চেতনার এক দীর্ঘ অভিযাত্রার প্রতীক।
আজ আমি বিশ্বাস করি, সন্তানের সাফল্যে একজন পিতার আনন্দ কেবল গর্বের আনন্দ নয়; এটি এক ধরনের আত্মদর্শন। সেখানে তিনি নিজের অসমাপ্ত স্বপ্নের পূরণ খোঁজেন না, বরং প্রত্যক্ষ করেন নতুন এক মানুষের বিকাশ, যে নিজের আলোয় আলোকিত।
আমার প্রার্থনা একটাই—সে যেন জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে প্রজ্ঞা অর্জন করে, সাফল্যের সঙ্গে নম্রতা ধারণ করে এবং মানুষের সেবাকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে। তার কর্ম যেন ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, এবং সে যেন কখনো ভুলে না যায় যে মানুষের প্রতি সহমর্মিতাই সকল জ্ঞানের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য।
অবশেষে, জীবনের এই দীর্ঘ পথচলায় এসে আমি উপলব্ধি করি—একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় পুরস্কার সন্তানের কত দূর যাওয়া নয়; বরং তাকে সেই মানুষ হিসেবে বিকশিত হতে দেখা, যার জন্য তার জন্ম হয়েছে।
সন্তান যখন নিজের আলোয় উদ্ভাসিত হয়, তখন পিতার হৃদয়ে যে প্রশান্তি জন্ম নেয়, তার কোনো ভাষা নেই। সেটি গর্বেরও ঊর্ধ্বে—সেটি এক নীরব কৃতজ্ঞতা, জীবনের প্রতি, সময়ের প্রতি এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি।
গাজায় ‘গণহত্যা’ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
- Details
ঢাকা, ১৮ মে, ২০২৬ (বাসস) : জাতিসংঘ সোমবার গাজায় ‘গণহত্যা’ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নির্মূলের’ ইঙ্গিত মেলায় এর নিন্দা জানিয়েছে।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, নতুন এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’, যা বহু ক্ষেত্রে ‘যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধের’ শামিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক প্রতিবেদনে ইসরাইলকে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা মেনে গাজায় গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ইসরাইলকে নিশ্চিত করতে হবে যে ‘তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সামরিক বাহিনী যেন গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয় এবং গণহত্যায় উসকানি প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’
প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ওই দিন হামাসের নজিরবিহীন হামলার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। প্রতিবেদনে প্রাথমিক হামলা ও পরবর্তী সময়ে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘গুরুতর লঙ্ঘন’, যার কিছু যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে, তারও নিন্দা জানানো হয়েছে।
হামাসের হামলায় ইসরাইলি অংশে ১ হাজার ২২১ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক বলে সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব বলছে।
সোমবারের প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মিদের ওপর চালানো নির্যাতনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বহু জিম্মি জানিয়েছেন, তারা মাসের পর মাস ‘অমানবিক পরিস্থিতিতে’ আটক ছিলেন এবং নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গাজায় নিহত অধিকাংশ জিম্মি গোপন আটক কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন—হয় অপহরণকারীদের হাতে, নয়তো আশপাশের সংঘাতের প্রভাবে।’
তবে প্রতিবেদনের বেশিরভাগ অংশই গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে, যেখানে ইসরাইলের পাল্টা সামরিক অভিযানে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, যাকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের বড় একটি অংশ ‘অবৈধ বলে প্রতীয়মান হয়’।
এতে আরও বলা হয়, ইসরাইল ‘বেসামরিক বা সুরক্ষিত স্থাপনা—যেমন স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান—এবং সাংবাদিক, সিভিল ডিফেন্ডার, স্বাস্থ্যকর্মী, মানবিক সহায়তাকর্মী ও পুলিশসহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক ও নিয়মিতভাবে হামলা চালিয়েছে।’
গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড ওই ভূখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার জীবনযাত্রাকে ‘ফিলিস্তিনিদের একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে টিকে থাকার অনুপযোগী’ করে তুলেছে বলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘পশ্চিম তীরে অপ্রয়োজনীয় ও অসম শক্তি প্রয়োগের ফলে শত শত অবৈধ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’
‘গাজা ও পশ্চিম তীর উভয় স্থানেই ইসরাইলি সামরিক ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক পরিসরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঘটিয়েছে।’
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ‘গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ইচ্ছাকৃত ও অবৈধভাবে ধ্বংস’ এবং ‘পশ্চিম তীরের উত্তরের শরণার্থী শিবিরগুলোর বড় অংশ খালি ও ধ্বংস’ করার ফলে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এতে ‘জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে ইসরাইল এই বাস্তুচ্যুতিকে স্থায়ী করতে চায়।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে ইসরাইলের ধারাবাহিক লঙ্ঘনসমূহ সম্মিলিতভাবে ‘ফিলিস্তিনিদের সমষ্টিগত শাস্তি প্রদান’, ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি’, ‘খালি করে দেওয়া’ এবং ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বড় অংশে জাতিগত নির্মূলের’ একটি ধারা নির্দেশ করে।
এতে আরও সতর্ক করা হয়, ‘ইসরাইলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক, অবমাননাকর ও অমানবিক ভাষা ব্যবহারও দেখা গেছে, যার কোনো জবাবদিহি হয়নি।’
মানবাধিকার দপ্তর জোর দিয়ে বলেছে, প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব লঙ্ঘনের জন্য ‘বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচারিক সংস্থার মাধ্যমে’ যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
এতে বলা হয়, ‘এদিকে সব প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তদন্ত করতে হবে।’
চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন নার্গিস মোহাম্মদি
- Details
ঢাকা, ১৮ মে, ২০২৬ (বাসস): ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তার সমর্থকদের মতে তেহরানের নিজ বাসায় ফিরে গেছেন।
তেহরান থেকে এএফপি সোমবার তার পরিবার ও সমর্থকরদের বরাতে জানায়, জামিন পাওয়ার পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
তারা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো সময় তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি রয়েছে। ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মোহাম্মদি হৃদরোগে ভুগছেন এবং গত ডিসেম্বরের সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতরভাবে অবনতি ঘটে।
তার ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি রোববার জাঞ্জানে ১৮ দিনের চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বের হন এবং পরে তেহরানে স্থানান্তরিত হন।
হাসপাতালে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপজনিত সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি ও তীব্র মানসিক চাপ, ক্রমাগত উদ্বেগ এবং কঠিন পরিবেশগত চাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানো উচিত নয় এবং তার চিকিৎসা কঠোরভাবে হাসপাতাল বা কারাগারের বাইরে অব্যাহত রাখতে হবে।
তার মেয়ে কিয়ানা রহমানি বলেন, ‘তার সুস্থতার জন্য কারাগারের বাইরে কঠোর চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তাকে আবার আটক করা মানে মৃত্যুদণ্ডের সমান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে তিনি মুক্ত থাকবেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব ভিত্তিহীন অভিযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে এবং নির্যাতন বন্ধ হবে।’
কিয়ানা ও তার যমজ ভাই আলি বর্তমানে প্যারিসে থাকেন এবং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তারা তাদের মাকে দেখতে পারেননি।
মোহাম্মদিকে ১০ মে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় এবং পরে চিকিৎসার জন্য তেহরানে স্থানান্তর করা হয়।
তার সমর্থকদের দাবি, কারাগারে থাকাকালে তিনি দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন এবং মৃত্যুর ঝুঁকিতে ছিলেন।
তার আইনজীবীদের মতে, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় তার বিরুদ্ধে এখনো প্রায় ১৮ বছরের কারাদণ্ড বাকি রয়েছে।
সমর্থকদের দাবি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ চলাকালে জাঞ্জানের কারাগারের কাছে অন্তত তিনবার বিমান হামলা হয়, যা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
৫৪ বছর বয়সী মোহাম্মদি গত দুই দশকের বেশিরভাগ সময়ই মানবাধিকার আন্দোলনের কারণে কারাবন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন। ২০২২-২৩ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের পক্ষে তিনি জোরালো সমর্থন দেন, তবে বৃহৎ আন্দোলন শুরুর আগেই তিনি গ্রেপ্তার হন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জানুয়ারির বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের পর ইরানে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক বন্দিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
হরমুজ সংকটে ক্ষুধার ঝুঁকিতে কোটি কোটি মানুষ: জাতিসংঘ কর্মকর্তা
- Details
ঢাকা, ১১ মে, ২০২৬ (বাসস): পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে সার পরিবহন বন্ধ থাকলে কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধা ও অনাহারের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের একটি টাস্কফোর্সের প্রধান।
সম্ভাব্য মানবিক সংকট ঠেকাতে কার্যরত এই কর্মকর্তা সোমবার এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কয়েক মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সার পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের প্রকল্প পরিষেবা দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক ও টাস্কফোর্স প্রধান জর্জ মোরেইরা দা সিলভা বলেন, ‘আমাদের সামনে কয়েক সপ্তাহ সময় আছে, না হলে একটি বিশাল মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি যেখানে আরও ৪৫ মিলিয়ন (৪ কোটি ৫০ লাখ) মানুষ ক্ষুধা ও অনাহারের ঝুঁকিতে পড়বে।’
জাতিসংঘ মহাসচিব মার্চ মাসে এই টাস্কফোর্স গঠন করেন, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে সার ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল যেমন অ্যামোনিয়া, সালফার ও ইউরিয়া পরিবহনের একটি ব্যবস্থা চালু করা।
মোরেইরা দা সিলভা জানান, তিনি গত কয়েক সপ্তাহে সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলোকে অন্তত কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন এবং ইতোমধ্যে ১০০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি বলেন, ক্রমেই বেশি দেশ এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানাচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং সার উৎপাদনকারী গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো পুরোপুরি এতে সম্মত হয়নি।
তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য হলো ‘স্থায়ী শান্তি’ চুক্তি এবং প্রণালীতে সব পণ্যের জন্য অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা। তবে সমস্যা হলো, ‘কৃষি মৌসুম তো অপেক্ষায় থাকবে না, কিছু আফ্রিকান দেশে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মৌসুম শেষ হয়ে যাবে।’
বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত প্রধান মনোযোগ ছিল তেল ও গ্যাস বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রভাবের দিকে। তবে জাতিসংঘ খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছে, কারণ আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মোরেইরা দা সিলভা বলেন, জাতিসংঘ সাত দিনের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালু করতে পারে। তবে প্রণালি এখনই খুলে গেলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে।
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। যদি আমরা সংকটের মূল কারণ দ্রুত না থামাই, তাহলে আমাদের পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে মানবিক সহায়তার মাধ্যমে।’
তিনি আরও বলেন, এখনো খাদ্যদ্রব্যের দাম ব্যাপকভাবে না বাড়লেও সারের দাম ইতোমধ্যে ‘বিপুলভাবে বেড়েছে’, যা কৃষি উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে এবং খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে মাত্র পাঁচটি সারবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও সংকট ঠেকানো সম্ভব।
তার মতে, সবচেয়ে বড় অভাব হলো ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’।
তিনি বলেন, আমরা দেরি করতে পারি না। এখন জরুরি হলো সার পরিবহন নিশ্চিত করা, যাতে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের ঝুঁকি কমানো যায়।
- Additional Resources:
- Additional Resources:
- Agro-Ocean
- Asian News and Views
- Bangabandhu Development and Research Institute
- Bangladesh North American Journalists Network
- Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta (BHESA)
- Coastal 19
- Delwar Jahid's Biography
- Diverse Edmonton
- Dr. Anwar Zahid
- Edmonton Oaths
- Mahinur Jahid Memorial Foundation (MJMF)
- Motherlanguage Day in Canada
- Samajkantha News
- Step to Humanity Bangladesh






