Requirements not met

Your browser does not meet the minimum requirements of this website. Though you can continue browsing, some features may not be available to you.


Browser unsupported

Please note that our site has been optimized for a modern browser environment. You are using »an unsupported or outdated software«. We recommend that you perform a free upgrade to any of the following alternatives:

Using a browser that does not meet the minimum requirements for this site will likely cause portions of the site not to function properly.


Your browser either has JavaScript turned off or does not support JavaScript.

If you are unsure how to enable JavaScript in your browser, please visit wikiHow's »How to Turn on Javascript in Internet Browsers«.


Your browser either has Cookies turned off or does not support cookies.

If you are unsure how to enable Cookies in your browser, please visit wikiHow's »How to Enable Cookies in Your Internet Web Browser«.

 

Language / ভাষা:

হাইলাইট:

এই বিভাগে

নিউজ লেটার

Please subscribe to our newsletter to receive current news highlights, as well as news and information about Doinik Ekattorer Chetona.

বিজ্ঞাপন

  • Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta · Promoter of Bangladeshi Culture and Heritage in and around Edmonton
  •  Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta (BHESA) · Promoter of Bangladeshi Culture and Heritage in and around Edmonton
  • Document Preparation Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  • Celebration of Mother Language, Culture and Heritage at MotherLanguageDay.ca
  • Legal Witnessing Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  • Samajkantha Online Inc. · The Voice of Society · Bengali online news magazine
  • Asian News and Views · Bengali online news magazine

Bengali Fonts

You need to install at least one Bengali font to read or write Bengali.

We offer a .ZIP-File true type font for download. Read the following installation instructions to see how to install the font.

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটের পাশাপাশি সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই দ্বিমুখী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উদ্যোক্তা একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার, যার সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ এবং যার ক্ষমতার বিস্তার কার্যত সীমাহীন। আইন, সংসদীয় জবাবদিহিতা ও জনমতের প্রতি এই সরকারের দায়বদ্ধতা দৃশ্যত অনুপস্থিত। এমন একটি প্রেক্ষাপটে গণভোট আয়োজন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং গভীর সাংবিধানিক উদ্বেগের জন্ম দেয়।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাংবিধানিক গণভোট কখনোই জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ নয়—এটি সর্বদা নির্দিষ্ট কর্তৃত্বশীল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সূচিত, কাঠামোবদ্ধ ও প্রণীত হয়। সাধারণত এই উদ্যোগ আসে নির্বাচিত সরকার, সংসদ, রাষ্ট্রপতি বা কিছু দেশে সীমিত পরিসরে নাগরিকদের কাছ থেকে। কে এই সূচনা ক্ষমতা ধারণ করে—এ প্রশ্নটি ভোটের ফলাফলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণভোট কেবল মতামত নয়, রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের হাতিয়ার।

নাগরিকদের সাংবিধানিক পরিবর্তনে কণ্ঠস্বর থাকা উচিত—এ নিয়ে দ্বিমত নেই। তবে আসল প্রশ্ন হলো, সেই কণ্ঠস্বর কীভাবে গঠিত, সুরক্ষিত ও তথ্যসমৃদ্ধ হয়। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও নৈতিক সুরক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন গণভোট গণতান্ত্রিক পুনর্নবীকরণের পরিবর্তে সাংবিধানিক ক্ষয়ের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশে প্রস্তাবিত গণভোটকে ঘিরে গণতান্ত্রিক বৈধতা ও সাংবিধানিক ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত এবং গণমাধ্যমের গভীর অনুসন্ধান এখন সময়ের দাবি। দেশীয় জনমত ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তাব কারা দিতে পারে?

তুলনামূলক সাংবিধানিক অনুশীলনে দেখা যায়, অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবিধানিক সংশোধনের প্রধান ভূমিকা পালন করে নির্বাচিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। উদাহরণস্বরূপ, আয়ারল্যান্ডে সাংবিধানিক পরিবর্তনের খসড়া প্রথমে সংসদে প্রণীত ও অনুমোদিত হয়, এরপর তা গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হয়। এখানে গণভোট কোনো সূচনাকারী নয়, বরং একটি অনুমোদনমূলক প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে, সীমিত কিছু রাষ্ট্র নাগরিক-প্রবর্তিত সাংবিধানিক সংশোধনের সুযোগ দেয়। সুইজারল্যান্ড এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ, যেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক নাগরিক স্বাক্ষর সংগ্রহের মাধ্যমে সরাসরি সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন। তবে এই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের মডেলও কঠোর পদ্ধতিগত সীমা, বিচারিক পর্যালোচনা ও সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় পরিচালিত হয়। কিছু সংবিধান সংসদ, রাষ্ট্রপতি ও নাগরিক—এই তিন পক্ষকেই গণভোট শুরু করার সুযোগ দেয়, কিন্তু প্রায় সর্বত্রই ঘন ঘন বা আবেগপ্রবণ সাংবিধানিক অস্থিরতা রোধে সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়।

এই ব্যবস্থাগুলোর একটি মৌলিক মিল রয়েছে—সংবিধান পরিবর্তন সাধারণ আইন প্রণয়নের মতো নয়। এটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি পরিবর্তন করে; তাই এটি ব্যতিক্রমী সতর্কতা, বৈধতা ও ন্যায্যতা দাবি করে।

গণভোট: গণতান্ত্রিক না বিপজ্জনক?

তুলনামূলক সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা দেখায়, গণভোট নিজেই গণতান্ত্রিক বা বিপজ্জনক নয়—এর প্রকৃতি নির্ভর করে সাংবিধানিক নকশা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং আইনি সুরক্ষার ওপর। বাংলাদেশের সংবিধান জনগণকে চূড়ান্ত সার্বভৌম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতিকে অর্থবহ করতে হলে রাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—গণভোট কি কেবল প্রতীকী ধারা হিসেবেই থাকবে, নাকি ভারতের বিচারিক সংযম, কানাডার রাজনৈতিক বাস্তববাদ এবং যুক্তরাজ্যের সতর্কতামূলক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এটি গণতান্ত্রিক বৈধতার একটি পরিমার্জিত হাতিয়ারে রূপ নেবে।

একটি প্রকৃত প্রজাতন্ত্রে জনগণের কণ্ঠস্বর শুধু সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি নয়—তা হতে হবে জীবন্ত, সচেতন ও সুরক্ষিত গণতান্ত্রিক বাস্তবতা।

সাংবিধানিক গণভোটের গণতান্ত্রিক প্যারাডক্স

গণতান্ত্রিক আবেদনের আড়ালে সাংবিধানিক গণভোট একাধিক গভীর সংকট সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জটিল সাংবিধানিক প্রশ্নকে অতি সরল “হ্যাঁ/না” ভোটে সীমাবদ্ধ করার প্রবণতা একটি গুরুতর আইনি সমস্যা। সংবিধান ক্ষমতার বিভাজন, বিচারিক স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিয়ন্ত্রণকারী একটি সূক্ষ্ম ও জটিল দলিল। এই জটিলতাকে দ্বিমাত্রিক ভোটে নামিয়ে আনলে নাগরিকরা প্রয়োজনীয় গভীরতা ও প্রজ্ঞা থেকে বঞ্চিত হন।

আইনবিদদের মতে, এই জটিলতা বিশ্লেষণের জন্যই সংসদ, সংসদীয় কমিটি ও আদালতের অস্তিত্ব—যে ভূমিকা গণভোট সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণভোট প্রায়শই শক্তিশালী নির্বাহী ক্ষমতার দ্বারা সংসদীয় নজরদারি এড়াতে, বিরোধী মতকে প্রান্তিক করতে অথবা বিতর্কিত ক্ষমতা সম্প্রসারণকে বৈধতা দিতে ব্যবহৃত হয়েছে। যখন গণভোটের সময়, ভাষা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ন্ত্রণে থাকে ক্ষমতাসীনদের হাতে, তখন জনসম্মতি বাস্তব প্রতিনিধিত্বের বদলে রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানীতে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সাংবিধানিক সংস্থাগুলো বহুবার সতর্ক করেছে—গণভোটের অপব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য দুর্বল করা সম্ভব, অথচ বাইরে থেকে গণতান্ত্রিক বৈধতার আবরণ বজায় থাকে।

এছাড়া, গণভোট প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অকার্যকর ও কম গণতান্ত্রিক হিসেবে উপস্থাপন করার ঝুঁকি তৈরি করে। এই ধারণা উপেক্ষা করে যে সংসদগুলো চলমান জবাবদিহিতা, বিশেষজ্ঞ বিতর্ক ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের জন্যই নকশা করা হয়েছে—যা একক জনপ্রিয় ভোটে অনুপস্থিত।

গণতন্ত্র কেবল ভোট গণনার বিষয় নয়; এটি সময়ের সাথে যুক্তিনির্ভর ও দায়বদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। গণভোটই চূড়ান্ত গণতান্ত্রিক পরীক্ষা—এই ধারণা সংবিধানবাদকে জনপ্রিয়তাবাদে পরিণত করার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কাই সবচেয়ে প্রবল।

লেখক:
দেলোয়ার জাহিদ, স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মুক্তিযোদ্ধা, সভাপতি, বাংলাদেশ নর্থ আমেরিকান জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক
এডমন্টন, আলবার্টা, কানাডা