Requirements not met
Your browser does not meet the minimum requirements of this website. Though you can continue browsing, some features may not be available to you.
Browser unsupported
Please note that our site has been optimized for a modern browser environment. You are using »an unsupported or outdated software«. We recommend that you perform a free upgrade to any of the following alternatives:
Using a browser that does not meet the minimum requirements for this site will likely cause portions of the site not to function properly.
Your browser either has JavaScript turned off or does not support JavaScript.
If you are unsure how to enable JavaScript in your browser, please visit wikiHow's »How to Turn on Javascript in Internet Browsers«.
Language / ভাষা:
সমসাময়িক
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা: মব, চাপ ও বিচারিক স্বাধীনতার তীব্র সংকট
- Details
//দেলোয়ার জাহিদ//
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি অস্থির ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সরকার পরিবর্তন, গণঅভ্যুত্থান, রাস্তায় ছাত্র-জনতার শক্তির উত্থান এবং প্রশাসনিক কাঠামোর দ্রুত পুনর্বিন্যাস—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। এর মধ্যে বিচারব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে আলোচিত ও চাপের মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশেষত “মব” বা সংগঠিত চাপের প্রভাব বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক ভারসাম্য এবং আইনের শাসন নিয়ে গভীর বিতর্কের জন্ম দেয়।
“মব” ও বিচারব্যবস্থা: নতুন এক বাস্তবতার উত্থান
“মব” বলতে সাধারণত এমন এক আবেগপ্রবণ বা সংগঠিত একটি জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা করে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রবণতা নতুন মাত্রা পায়। আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ, বিচারকদের বিরুদ্ধে সরাসরি স্লোগান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর ঘেরাওধর্মী চাপ—এসব ঘটনা বিচারব্যবস্থাকে এক নতুন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করায়।
ফলে বিচারব্যবস্থাকে অনেক ক্ষেত্রেই আর সম্পূর্ণ স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়নি; বা দেখার সুযোগ ছিলোনা বরং এটি রাজনৈতিক আবহ, জনমত ও রাস্তাঘাটের চাপের প্রতি সংবেদনশীল এক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে—এমন ধারণা ক্ৰমে শক্তিশালী হতে থাকে।
প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ: এক ঐতিহাসিক ও প্রতীকী ঘটনা
২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের পদত্যাগ বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আন্দোলনকারীদের অবস্থান, বিক্ষোভ এবং প্রকাশ্য পদত্যাগের দাবির মুখে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিগত ঘটনা ছিল না; বরং এটি বিচার বিভাগের উপর পরিকল্পিত চাপের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের আরও কয়েকজন বিচারপতির পদত্যাগ পরিস্থিতির গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই ঘটনাগুলো বিচারকদের জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক বার্তা বহন করে—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতও “রাস্তার চাপ” থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। এর ফলে বিচারিক স্বাধীনতার ধারণা ও নিরাপত্তাবোধ উভয়ই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
বিচারকদের উপর সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিচারকদের বিরুদ্ধে প্রচারণা, সমালোচনা এবং পক্ষপাতের অভিযোগের প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। কিছু বিচারককে পূর্ববর্তী রাজনৈতিক শক্তির ঘনিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়; আবার অনেকের বিরুদ্ধে “জনবিচারধর্মী” ভাষায় আক্রমণ চালানো হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচারকদের অপসারণ বা পদত্যাগের দাবি রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশে পরিণত হয়।
এর ফলে বিচারকদের সামনে এক জটিল দ্বৈত সংকট তৈরি হয়—
একদিকে সংবিধান ও আইনের নিরপেক্ষ ব্যাখ্যার দায়িত্ব,
অন্যদিকে জনরোষ, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয় ।
এই বাস্তবতা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
বিচার বিভাগে পুনর্বিন্যাস ও সংস্কারের বিতর্ক
৫ আগস্টের পর বিচার বিভাগে দ্রুত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল—
নতুন প্রধান বিচারপতির নিয়োগ,
আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের পুনর্বিন্যাস,
কিছু বিচারকের পদত্যাগ,
বিচারিক প্রশাসনে নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ,
এবং বহুল আলোচিত রাজনৈতিক মামলাগুলোর পুনর্মূল্যায়ন।
সরকারপক্ষ ও সমর্থক মহল এসব পরিবর্তনকে “বিচার বিভাগের সংস্কার” হিসেবে উপস্থাপন করলেও সমালোচকদের প্রশ্ন—এসব কি প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, নাকি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ? আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে দেশের নানা স্তরে এমন সব বিষয় উঠে আসছে যে এখানে দমন, পীড়ন, নির্যাতন ও হত্যা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কারণ বিচার বিভাগের প্রতি জনআস্থা নির্ভর করে শুধু পরিবর্তনের উপর নয়, বরং সেই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সাংবিধানিক ছিল তার উপরও।
একে “বিচার” বনাম “জনআবেগ” না বলে একটি পরিকল্পিত নকশা বললে ভুল হবে না।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল ন্যায়ানুগ দ্রুত বিচার, দুর্নীতির শাস্তি এবং রাজনৈতিক অপব্যবহারের অবসান। কিন্তু ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি হলো—বিচার হবে আদালতে, উস্কে দেয়া সংগঠিত ছাত্র-জনতার চাপে নয়।
যখন আদালতের সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ড, রাস্তাঘাটের স্লোগান বা রাজনৈতিক আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় পড়ে, তখন আইনের শাসনের জায়গায় ধীরে ধীরে “আবেগের শাসন” প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এখানেই “মব জাস্টিস” ও “রুল অব ল”-এর মৌলিক সংঘাত।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেই ইচ্ছার বাস্তবায়ন অবশ্যই সাংবিধানিক কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হতে হবে। অন্যথায় ন্যায়বিচার প্রতিশোধে রূপ নিতে পারে।
২০২৬ সালের নির্বাচন ও বিচার বিভাগের ভূমিকা
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া। এখানেও বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে আদালতের সামনে যেসব প্রশ্ন আসতে পারতো , তার মধ্যে ছিল —
রাজনৈতিক মামলা,
প্রার্থিতা বাতিল বা অযোগ্যতা সংক্রান্ত বিরোধ,
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ,
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ,
এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার।
এসব বিষয়ে আদালতের ভূমিকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কিন্তু বিচারকরা যদি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, সামাজিক চাপ বা মব-সংস্কৃতির আশঙ্কায় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন, তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জনগণের আস্থা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এবং হচ্ছে ও তাই.
বিচারিক স্বাধীনতা: গণতন্ত্রের শেষ আশ্রয়
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগ হলো নাগরিকের শেষ সাংবিধানিক আশ্রয়স্থল। নির্বাহী ও আইনসভা যখন বিতর্কিত বা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে অভিযুক্ত হয়, তখন জনগণ শেষ ভরসা হিসেবে আদালতের দিকে তাকায়। কিন্তু আদালত নিজেই যদি ভয়, চাপ ও জনআবেগের মধ্যে পরিচালিত হয়, তবে আইনের শাসনের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিচার বিভাগের সংস্কার অবশ্যই প্রয়োজন হতে পারে। তবে সেই সংস্কার হতে হবে—
সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে,
প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে,
এবং বিচারিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে।
রাস্তার চাপ, আবেগনির্ভর জনআন্দোলন বা মব-সংস্কৃতির মাধ্যমে বিচার বিভাগ পুনর্গঠন দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে।
উপসংহার
৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থা এক গভীর রূপান্তর ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারকদের পদত্যাগ, আদালতের উপর সংগঠিত জনচাপ, সামাজিক মাধ্যমে বিচারিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া এবং রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস—সব মিলিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে।
গণতন্ত্রে জনগণের শক্তি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেই শক্তি যদি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভয়, চাপ বা প্রতিশোধের সংস্কৃতির মধ্যে পরিচালিত করে, তবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রই দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ন্যায়বিচারের প্রকৃত ভিত্তি হলো স্বাধীন আদালত, নিরপেক্ষ বিচারক এবং আইনের শাসনের প্রতি অটল আস্থা—মবের শাসন নয়। “মব কেবল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, নাগরিকতার বিরুদ্ধেও দাঁড়ায়।”
“মব ইজ আ রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল” না “ডিনায়েল অব স্টেটহুড”: রাষ্ট্র, জনতা ও সহিংসতার দ্বৈত পাঠ
- Details
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ইত্তেফাক-এ ৪ মে ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—“মব ইজ আ রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল।” আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের প্রেক্ষিতে ‘মব’ সহিংসতা বিচারযোগ্য কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী যুক্তি দেন, মব কোনো পদ্ধতিগত বা ব্যাপক পরিকল্পিত অপরাধ নয়; বরং এটি জনগণের প্রতিক্রিয়া, যা সাধারণ আইনের আওতায় বিবেচিত হতে পারে। আরও বলেন, এসব ঘটনাকে বিচার করতে গেলে স্বাধীনতাসংগ্রাম, গণ–অভ্যুত্থান বা বিপ্লবের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও দার্শনিক—দুই স্তরেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়: মব কি সত্যিই কেবল জনগণের প্রতিক্রিয়া, নাকি এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ?
প্রথমত, “মব ইজ আ রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল”—এই ধারণাটি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বে প্রোথিত। Jean-Jacques Rousseau-এর “General Will” ধারণা অনুযায়ী, রাষ্ট্র তখনই বৈধ যখন তা জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়। যখন রাষ্ট্র সেই দায়িত্বে ব্যর্থ হয়—বিচারহীনতা, বৈষম্য কিংবা দমন-পীড়নের মাধ্যমে—তখন জনগণের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণই অনেক সময় মব আচরণে রূপ নেয়।
তবে এই ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। Thomas Hobbes মবকে দেখেছিলেন সভ্যতার বিপরীতমুখী শক্তি হিসেবে—যেখানে সমাজ “state of nature”-এ ফিরে যায় এবং “war of all against all” পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্যদিকে John Locke মনে করেন, রাষ্ট্র যদি মানুষের প্রাকৃতিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণের প্রতিরোধ ন্যায্য হতে পারে। কিন্তু সেই প্রতিরোধ যখন আইনের সীমা অতিক্রম করে, তখন তা ন্যায়বিচারের বদলে প্রতিশোধে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়—মব একদিকে ন্যায়বিচারের বিলম্বের প্রতিক্রিয়া, অন্যদিকে আইনের শাসনের জন্য হুমকি। অর্থাৎ, এটি নৈতিকভাবে বোধগম্য হলেও রাজনৈতিকভাবে খুবই বিপজ্জনক।
দ্বিতীয়ত, “মব ইজ আ ডিনায়েল অব স্টেটহুড”—এই দৃষ্টিভঙ্গি আরও কাঠামোগত। Max Weber রাষ্ট্রকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন বৈধ বলপ্রয়োগের একচেটিয়া অধিকারী হিসেবে। যখন রাষ্ট্র এই কর্তৃত্ব কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই শূন্যতা পূরণ করে মব। ফলে মব কেবল জনতার আবেগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার ভাঙনের সুস্পষ্ট লক্ষণ।
এই ব্যাখ্যায় তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়:
ক্ষমতার শূন্যতা—আইন প্রয়োগের দুর্বলতা
রাষ্ট্রীয় নীরবতা বা পরোক্ষ মদদ
বিচার ও প্রশাসনের প্রতি আস্থার অবক্ষয়
Hannah Arendt দেখিয়েছেন, যেখানে বৈধ ক্ষমতা দুর্বল হয়, সেখানে সহিংসতা বেড়ে যায়। এই দৃষ্টিতে মব হলো একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রের উপসর্গ—“symptom of broken statehood”।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তি দূর করা জরুরি। গণ–অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের সাথে মবকে এক কাতারে ফেলা দার্শনিকভাবে সঠিক নয়। গণ–অভ্যুত্থান সাধারণত জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ হলেও, বিপ্লব একটি সংগঠিত ও আদর্শভিত্তিক রূপান্তর প্রক্রিয়া। কিন্তু মব—তা প্রায়শই অনিয়ন্ত্রিত, তাৎক্ষণিক এবং আইনের সীমা অতিক্রমকারী সহিংসতা, যার লক্ষ্য সবসময় ন্যায় প্রতিষ্ঠা নয়।
অতএব, মবকে শুধুমাত্র “জনগণের প্রতিক্রিয়া” হিসেবে বৈধতা দেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি একে কেবল “রাষ্ট্রের ব্যর্থতা” বলে দায় এড়ানোও অসম্পূর্ণ। বাস্তবতা হলো—মব এই দুইয়েরই সংযোগস্থল। এটি একদিকে জনগণের হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে রাষ্ট্রের দুর্বলতা ও অকার্যকারিতার প্রতিফলন।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি নৈতিক বা রাজনৈতিক ব্যাখ্যার চেয়ে বড়—এটি রাষ্ট্রের বৈধতা ও আইনের শাসনের প্রশ্ন। যদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে মব জন্ম নেবে; কিন্তু যদি মবকে সহনীয় বা বৈধ বলা হয়, তবে রাষ্ট্র নিজেই তার অস্তিত্বের ভিত্তি দুর্বল করে ফেলবে, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে ।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাই দ্বিমুখী—ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন অটুট রাখা। এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষাই একটি কার্যকর রাষ্ট্রের প্রকৃত পরীক্ষা।
স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ
- Details
স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ২৮ মার্চ শনিবার রাতে ঢাকায় স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ প্রবাসী সাংবাদিক, লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহিদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল বীর সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথা জাতির ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেলোয়ার জাহিদ বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সহিংসতা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর অপ্রত্যাশিত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ক্ষুণ্ন করছে। তিনি বলেন, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, সমন্বিত কার্যক্রম এবং সচেতন নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ সরকারকে এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে এবং দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আলোচনায় বগুড়ার পুন্ড্র ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এর সাবেক পরিচালক ড. আনোয়ার জাহিদ স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশের কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেন। তিনি তরুণ প্রজন্মকে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যক্ষ সাদিক পুত্র ড. কামরুল হাসান, সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এবং সভাপতি, স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশ।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাংবাদিক খায়রুল আহসান মানিক (ইউএনবি), ভাইস প্রেসিডেন্ট, স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশ; মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন (বাসস); ফিরোজ মিয়া, সম্পাদক, দৈনিক ভোরের সূর্যোদয়; নারী নেত্রী নাসিমা আক্তার, সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি; সাংবাদিক শামসুল হাবিব (যুগান্তর); সাইফুর হাসান, সাইবার সিকিউরিটি কর্মকর্তা; প্রবাসী ব্যবসায়ী শাখাওয়াত ইকবাল এবং প্রকৌশলী ইভানা হোসাইন।
বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী ইভানা হোসাইন।
- Additional Resources:
- Additional Resources:
- Agro-Ocean
- Asian News and Views
- Bangabandhu Development and Research Institute
- Bangladesh North American Journalists Network
- Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta (BHESA)
- Coastal 19
- Delwar Jahid's Biography
- Diverse Edmonton
- Dr. Anwar Zahid
- Edmonton Oaths
- Mahinur Jahid Memorial Foundation (MJMF)
- Motherlanguage Day in Canada
- Samajkantha News
- Step to Humanity Bangladesh






