Print

ঢাকা — আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হওয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে স্বাগত জানালেও, সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ড. ইউনূসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আন্তর্জাতিক অংশীদাররা বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে রাজনৈতিক বর্ণালীর সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে কাঠামোগত সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা কিংবা পূর্বে বিতর্কিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় সক্রিয় করা হলে নির্বাচনী পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক আস্থার পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশের ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু হিসেবে বিবেচনা করেনি। এ ছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরের (OHCHR) এক ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণআন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন বলে অনুমান করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এসব মৃত্যুর প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি হলেও সেই প্রক্রিয়া যেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হয় এবং প্রতিশোধমূলক রাজনীতির ধারাবাহিকতা সৃষ্টি না করে। এতে সংগঠনের স্বাধীনতা এবং সমষ্টিগত নয়, ব্যক্তিগত অপরাধ দায়—এই দুই মৌলিক মানবাধিকার নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সম্পূর্ণ কার্যক্রম স্থগিত করা মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেসব ব্যক্তি গুরুতর অপরাধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই সঙ্গত।

চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার অথবা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রয়েছে এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন করার, যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং জনগণের কণ্ঠ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে

চিঠির শেষাংশে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশটির গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।