Print

 

এডমন্টনে জরুরি বিভাগে দীর্ঘ অপেক্ষার পর এক ব্যক্তির মৃত্যু, জবাবদিহি ও দায় নির্ধারণের দাবি পরিবারের

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর এডমন্টনের ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু আলবার্টার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জরুরি সেবা বিলম্ব, জবাবদিহির অভাব এবং সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

২২ ডিসেম্বর গ্রে নানস কমিউনিটি হাসপাতালে মারা যান প্রশান্ত শ্রীকুমার। সেদিন তীব্র বুকে ব্যথা নিয়ে তিনি জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। পরিবারের ভাষ্যমতে, হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই তার ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) এবং রক্তপরীক্ষা করা হয়, যেখানে তাৎক্ষণিক কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। কিন্তু উপসর্গ ক্রমশ বাড়তে থাকলেও তাকে প্রায় আট ঘণ্টা জরুরি বিভাগের অপেক্ষাকক্ষে বসে থাকতে হয়। শেষ পর্যন্ত তাকে চিকিৎসাকক্ষে নেওয়ার পর তিনি হঠাৎ লুটিয়ে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যান।

তার স্ত্রী নিহারিকা শ্রীকুমার জানান, অবস্থার গুরুতরতা বোঝাতে তার স্বামী বারবার হাসপাতালকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। অপেক্ষার সময় তিনি অসহনীয় ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, মাথা ঘোরা এবং বিপজ্জনকভাবে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিলেন। এসব উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও পরিবারকে জানানো হয় যে অন্য রোগীদের তুলনায় তার অবস্থা ‘ততটা জরুরি’ নয় এবং দীর্ঘ অপেক্ষা স্বাভাবিক বিষয়।

এই আকস্মিক মৃত্যু পরিবারটিকে মানসিক ও আর্থিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে। দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের সার্বক্ষণিক যত্ন প্রয়োজন। দুজনেই পেশায় হিসাবরক্ষক হলেও পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন প্রশান্ত। এখন স্ত্রী নিহারিকা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি, এমন এক ক্ষতি বয়ে নিয়ে, যা তার মতে প্রতিরোধযোগ্য ছিল।

ব্যক্তিগত শোকের বাইরে পরিবারটি ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা ও দায় নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—এই ঘটনায় অবহেলা কিংবা এমনকি বর্ণগত পক্ষপাতের কোনো ভূমিকা ছিল কি না। তাদের বক্তব্য, কানাডার নাগরিক ও করদাতা হিসেবে জীবনসংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে তারা সময়মতো ও যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

আলবার্টা হেলথ সার্ভিসেস জানায়, গ্রে নানস হাসপাতালে জরুরি বিভাগে গড় অপেক্ষার সময় সাড়ে তিন ঘণ্টার কিছু বেশি হলেও ব্যক্তিভেদে এই সময় অনেক বেশি হতে পারে। হাসপাতাল পরিচালনাকারী কোভেন্যান্ট হেলথ নিশ্চিত করেছে যে ঘটনাটি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে এবং তা প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় তারা নির্দিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য করতে না পারলেও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

এই ঘটনা জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত ভিড়, ট্রায়াজ পদ্ধতি এবং রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে জনআলোচনা আরও তীব্র করেছে। একই সঙ্গে এটি বড় প্রশ্নও তুলে ধরছে—বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা কি সত্যিই সময়মতো সংকটাপন্ন উপসর্গ শনাক্ত ও সাড়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত?