Print

নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের দৌড়ে চীনা ও ক্যারিবীয় নারী লেখক

ঢাকা, ৬ অক্টোবর ২০২৬ : এবারের নোবেল সাহিত্য পুরস্কারে চীনা ও ক্যারিবীয় নারী লেখকদের সম্ভাবনা নিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা বিশ্বের পুরুষ লেখকদের প্রাধান্য থাকা এই পুরস্কারে এবার ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার সাহিত্য স্বীকৃতি পেতে পারে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যান্টিগুয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন লেখক জ্যামাইকা কিনকেইড এবং চীনা ঔপন্যাসিক কান শুয়ে। ক্যারিবীয় জীবন, ঔপনিবেশিকতার উত্তরাধিকার, বর্ণবৈষম্য, পরিবার ও ব্যক্তিসত্তার সংকট নিয়ে লেখার জন্য পরিচিত কিনকেইড দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রচলিত সাহিত্যরীতির বাইরে পরীক্ষাধর্মী ও জটিল আখ্যান নির্মাণের জন্য পরিচিত কান শুয়ের লেখার সঙ্গে ফ্রানৎস কাফকার সাহিত্যরীতির তুলনা করা হয়।

সুইডেনের দৈনিক এক্সপ্রেসেন-এর সংস্কৃতিবিষয়ক সমালোচক ভিক্টর মালম মনে করেন, কিনকেইডের নোবেল পাওয়ার সময় এসেছে। দেশটির অন্যতম প্রধান দৈনিক ডাগেনস নিহেটারের সংস্কৃতি সম্পাদক বিওর্ন উইমানও তাঁর সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। উইমানের মতে, কিনকেইডের সাহিত্য এমন এক স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা ও ভাষাশৈলী ধারণ করে, যা বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ স্বীকৃতির দাবি রাখে।

কিনকেইডের ১৯৯০ সালে প্রকাশিত উপন্যাস *লুসি* তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর একটি। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এক তরুণীর অভিবাসন, পরিচয়সংকট এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আত্মপরিচয় নির্মাণের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।

নোবেল সাহিত্যে নারী ও বৈশ্বিক বৈচিত্র্যের প্রশ্ন

১৯০১ সালে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তনের পর থেকেই বিজয়ীদের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এ পর্যন্ত ১২২ জন পুরস্কারপ্রাপ্তের মধ্যে নারী মাত্র ১৮ জন—যা সাহিত্যে নারীদের অবদানের তুলনায় স্বীকৃতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যও এই পুরস্কারে তুলনামূলকভাবে কম প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে।

গত বছর হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই নোবেল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর আগে-পরে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় ইউরোপীয় পুরুষ লেখকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি সুইডিশ একাডেমির নির্বাচনী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

২০১৮ সালে যৌন নিপীড়ন-সংশ্লিষ্ট কেলেঙ্কারির পর সুইডিশ একাডেমি প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে যায়। পরবর্তী বছরগুলোতে নারী লেখকদের স্বীকৃতি বাড়লেও পুরস্কারের সামগ্রিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা থাকলেও সুইডিশ একাডেমির কোনো প্রকাশ্য সংক্ষিপ্ত তালিকা নেই। মনোনয়ন ও বিচারপ্রক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট নথি ৫০ বছর গোপন রাখা হয়। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে সম্ভাব্য বিজয়ীদের নাম নিয়ে জল্পনা থাকলেও তা নিশ্চিতভাবে যাচাই করার সুযোগ সীমিত।

সুইডিশ একাডেমি বরাবরই বলে আসছে, লেখকের লিঙ্গ, ভৌগোলিক পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান নয়, তাঁর সাহিত্যকর্মের গুণমানই পুরস্কার নির্বাচনের প্রধান বিবেচ্য। এবারের পুরস্কারে কিনকেইড, কান শুয়ে কিংবা অন্য কোনো লেখক স্বীকৃতি পান কি না, তা জানতে সাহিত্যবিশ্বের নজর এখন স্টকহোমের দিকে।

সূত্র: বার্তা সংস্থা বাসস।