নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা: অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন; হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে পুলিশ
নেত্রকোনা, ১৫ অক্টোবর ২০২৬: নেত্রকোনার তেলনজিয়া বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মানবজমিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলিফ ফকির ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে তেলনজিয়া বাজারের একটি দোকানে চা পান শেষে বের হচ্ছিলেন আলিফ ফকির। এ সময় দুই যুবক এসে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা কিছুটা দূরে রাখা একটি মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
একজন সাংবাদিককে এভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার প্রশ্ন সামনে এনেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আইনানুগ বিচারের স্বার্থে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
সূত্র: মানবজমিন, ‘নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা’, ১৫ অক্টোবর ২০২৬।
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও নিন্দা
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের গুলিতে নিহত হওয়ার মর্মান্তিক সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি সত্য অনুসন্ধান, জনস্বার্থ রক্ষা এবং সমাজের অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একজন সাংবাদিকের জীবন কেড়ে নেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের ওপরও গুরুতর আঘাত।
আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
আমি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তাঁর পরিবারের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করছি।
দেলোয়ার জাহিদ
সভাপতি, নর্থ আমেরিকান জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, দৈনিক একাত্তরের চেতনা